এআই দিয়ে আশির দশকের আবহে ছবি তৈরির পর মূল ছবি কী করে চ্যাটবটগুলো

প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
https://mail.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://mail.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকের আদলে তৈরি ছবি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চ্যাটবট জেমিনাই বা চ্যাটজিপিটিতে নিজের ছবি আপলোড করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেগুলো আশির দশকের আবহে রূপান্তর করছেন অনেকে। কারও ছবিতে যুক্ত হচ্ছে সেই সময়ের পোশাক ও চুলের ধরন, আবার কারও ছবিতে তৈরি হচ্ছে তরুণ বয়সের অবয়ব। 

কেউ কেউ আশির দশকের জনপ্রিয় গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকার ছবিও তৈরি করছেন। তবে এআই দিয়ে এমন ছবি তৈরির সময় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় অনেকেরই নজর এড়িয়ে যাচ্ছে-ব্যবহৃত মূল ছবিটি এআই সেবার কাছে কত দিন সংরক্ষিত থাকবে এবং তা কীভাবে ব্যবহার করা হতে পারে।

 
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়্যার্ডের এক প্রতিবেদনে এআই চ্যাটবটে ছবি আপলোডের সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এআই চ্যাটবটে ছবি আপলোড করা শুধু একটি ছবি জমা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন তথ্যও যুক্ত হতে পারে। ফোনের গ্যালারিতে থাকা সাধারণ একটি ছবি মনে হলেও সেটিতে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে ছবিটি কখন, কোথায় বা কোন যন্ত্র দিয়ে তোলা হয়েছে, তা জানা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি মানুষের মুখ নিজেই একটি স্বতন্ত্র পরিচয়। ফলে ছবির মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হলে সেটিও ব্যক্তিগত তথ্যের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

ছবি থেকেই তৈরি হতে পারে ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবুধাবির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা পপার জানিয়েছেন, এআই চ্যাটবট বিভিন্ন স্তরে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ব্যবহারকারী কী লিখছেন এবং কী ধরনের ছবি বা ফাইল আপলোড করছেন, সেসব তথ্যের পাশাপাশি আইপি ঠিকানা, ব্যবহৃত যন্ত্রের ধরন, ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস এবং সংরক্ষিত উত্তর বা ফাইলও এসব তথ্যের অংশ হতে পারে। অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রেন্ডে অংশ নিতে এআই টুলে ছবি আপলোড করার মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজের অজান্তেই নিজের সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ধারণা তৈরির সুযোগ করে দিতে পারেন।

 
এআই দিয়ে তৈরি আশির দশকের ছবিটি হয়তো কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডে আর দেখা যাবে না। কিন্তু সেই ছবি তৈরির জন্য আপলোড করা মূল ছবিটি আরও দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত থাকতে পারে। ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহারকারী চ্যাট মুছে ফেললেও তা ওপেনএআইয়ের সার্ভারে ৩০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। 

অ্যাকাউন্টের সঙ্গে থাকা পরিচয়সংক্রান্ত কিছু তথ্য আরও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা হতে পারে। অন্যদিকে, জেমিনাইয়ে চ্যাটের তথ্য ডিফল্টভাবে ১৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। ক্লডে কোনো চ্যাট মুছে ফেললে অ্যানথ্রপিকের ব্যাকএন্ড থেকে তা ৩০ দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে এআই মডেল প্রশিক্ষণে চ্যাট ব্যবহারের অনুমতি দিলে তথ্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত হতে পারে।

বিনোদনের আগে প্রয়োজন গোপনীয়তার সচেতনতা
দীর্ঘ সময় এআই সেবা ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারী কী ধরনের ছবি আপলোড করছেন, কী ধরনের প্রশ্ন করছেন এবং কোন কাজে এআই ব্যবহার করছেন-এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তির ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব। ই-মেইল, অনলাইন কেনাকাটা, ব্যক্তিগত ছবি ও অ্যালবামের মতো বিভিন্ন সেবার সঙ্গেও এআই টুল যুক্ত হচ্ছে। ফলে এসব সিস্টেমের কাছে থাকা ব্যক্তিগত তথ্যের পরিমাণ ও গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

আশির দশকের আবহে একটি ছবি তৈরি করা আপাতদৃষ্টিতে নিছক বিনোদনের বিষয় হলেও, এআই টুলে ব্যক্তিগত ছবি আপলোডের আগে তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবহারের উদ্দেশ্য ও গোপনীয়তা নীতিমালা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। সূত্র: দ্য ভার্জ, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

image

আপনার মতামত দিন