লাখো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫
https://mail.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png নিজস্ব প্রতিবেদক
https://mail.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত
রমজান মাসের শেষ দিকে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো ছিল সুনসান নীরবতায় ভরা। তবে ঈদের দিন থেকে সেই নীরবতা ভেঙে গেছে। গতকাল ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটন কেন্দ্রগুলো ছিল ভিড়ে উপচে পড়া। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, চা-বাগান, ঝরনা-সব জায়গায় পর্যটকদের ঢল নামেছিল। ঈদের দীর্ঘ ছুটির সুযোগে পর্যটন ব্যবসা জমে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ছিল পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখরিত। সমুদ্রের নোনাজলে গা ভাসিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন হাজার হাজার পর্যটক। কেউ গোসল করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ সৈকতের ঢেউ উপভোগ করছেন। কক্সবাজার সৈকতে গতকাল দেড় লক্ষাধিক পর্যটক এসেছিলেন, এ ছাড়া প্রায় ৩০-৩৫ হাজার স্থানীয় মানুষও ছিলেন। সব মিলিয়ে সৈকতের পানিতে ঝাঁপাঝাঁপি করেছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ।

কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো, যেমন মেরিন ড্রাইভ, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেক, রামুর বৌদ্ধপল্লি, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, আদিনাথ মন্দিরে পর্যটকরা ছুটে যান। হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস এবং রিসোর্টের কক্ষ প্রায় ৯৫ শতাংশ বুক হয়ে গেছে। কক্সবাজার শহর ও মেরিন ড্রাইভে ৫০০-এর বেশি হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও রিসোর্টে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়ও ছিল ব্যাপক ভিড়। আবাসিক হোটেলগুলোতে কক্ষ সংকট দেখা দেওয়ায়, যারা আগাম বুকিং করেননি, তারা ভাড়া বেশি দিয়ে কক্ষ পেয়েছেন। অনেক পর্যটক পছন্দমতো কক্ষও পায়নি।

সিলেট জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এ বছর ঈদের পরপরই বিরাট ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চা-বাগান, সাদাপাথর, জাফলংয়ের ঝরনা, রাতারগুল, লালাখাল, বিছনাকান্দি, পান্তুমাই, লোভাছড়া, ঝরনার মতো স্থানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারে ধর্মীয় আগ্রহী মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

এ বছর সিলেটে ১৫ লাখ পর্যটকের সমাগমের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও ছিল দর্শনার্থীদের ঢল। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, বাইক্কাবিল, অন্তেহরি গ্রাম, ঝরনা এবং বধ্যভূমি ৭১ এ হাজার হাজার পর্যটক এসেছেন। তবে, কিছু এলাকায় পর্যাপ্ত শৌচাগার, ক্যান্টিন ও বিশ্রাম নেওয়ার বেঞ্চের অভাব ছিল, যা কিছুটা অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

রাঙামাটি ও চট্টগ্রামেও পর্যটকদের আগমন ছিল উল্লেখযোগ্য। রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, বড়গাঙ, রাইন্যা টুগুন, বেরান্নে লেক, রাঙাদ্বীপ ও শিশু পার্কসহ অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলো ছিল পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। সাজেকের কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ জানিয়েছেন, তাদের ৯০ শতাংশ কটেজ-রিসোর্ট বুক হয়ে গেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগরী ও এর আশপাশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোও ছিল ভিড়ে ঠাসা। পতেঙ্গা, চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক, জাতিসংঘ পার্ক, প্রজাপতি পার্ক, গুলিয়াখালী চা-বাগানসহ অন্যান্য স্থানগুলো পর্যটকদের উপস্থিতিতে জমে উঠেছিল।
 
এবারের ঈদ পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ব্যবসায়ীদের জন্য বড় একটি সুযোগ তৈরি করেছে। দীর্ঘ ছুটি, বিশেষ করে ঈদের দিনে পর্যটকদের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে দেশের পর্যটন শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটেছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে পর্যটকদের সুবিধার জন্য আরও কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তবে দেশজুড়ে পর্যটন খাতের এমন পুনরুজ্জীবন দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
image

আপনার মতামত দিন