ছোটবেলায় যখন কম্পিউটার দেখতাম, তখন শুধু তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম একটা কম্পিউটার আমার কবে হবে! কবে নিজের করে পাবো এই যন্ত্রটা! নদীর মতো সময়- আজ আমার অনেকগুলি কম্পিউটার। সেগুলি থরে থরে সাজিয়ে রেখেছি। ফ্রিল্যান্সার শিক্ষার্থীরা এসে এগুলো ব্যবহার করেন। নিজে ফ্রিল্যান্সিং করছি আর সারাদেশের আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণও দিচ্ছি। সেই টাকা দিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছি। তিন বছর আগে গ্রাম থেকে বাবা-মা, ভাই-বোনদেরকে সিলেট শহরে এনেছি। তাদের সিলেটে ভালো স্কুলে ভর্তি করেছি। গত চার বছরে শুধু ফ্রিল্যান্সিং করেই ৯০ লাখ টাকার মতো আয় করেছি।
এভাবে নিজের জীবনের কথা বলেন ফ্রিল্যান্সিং অ্যাজেন্সি ওয়ান ম্যান সল্যুশনসের প্রতিষ্ঠাতা, সফল ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল মার্কেটার ফারজুক আহমেদ। বর্তমানে আইসিটি অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের সিলেট জেলার মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন তিনি।
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ছেলে ফারজুক। গ্রামের ধুলোমাটি গায়ে মেখে বড় হয়েছেন। ছেলেবেলায় পড়াশোনার প্রতি বেশ মনোযোগী ছিলেন। লক্ষ্য ভালো রেজাল্ট করা। বড় হয়ে এমন কিছু করা যাতে মধ্যবিত্ত পরিবারে বাবা-মায়ের সব দুঃখ-কষ্ট দূর করতে পারেন।
ফারজুকের স্বপ্ন ছিল নিজের একটা কম্পিউটার কেনার। শিখবে, মনের মতো করে চালাবে। মানুষকে শেখাবে। টাকা আয় করবে। পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করবে। মধ্যবিত্ত পরিবার- সে স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই ছিল। বাবার কাছে কম্পিউটার কেনার কথা বললে জুড়ে দেন শর্ত। ক্লাসে ফাস্ট হতে হবে, এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। বাবার দেয়া সব শর্তই ফারজুক পূরণ করেছিলেন।
তার ভাষ্য, স্কুল জীবনে সব সময় ভালো রেজাল্ট করেছি। এসএসসি ও এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়েছি। কিন্তু বাবার সামর্থ্য ছিল না আমাকে একটা কম্পিউটার কিনে দেয়ার। কেননা আমরা তিন ভাই এক বোন। সবার সব চাহিদা বাবার একার পক্ষে পূরণ করাটা অনেক কঠিন ছিল।
ফারজুকের বাবা প্রবাসে চাকরি করতেন। পরিবারের সবার ইচ্ছে বড় ছেলে ডাক্তার হবে। অনেক বড় চাকরি করবে। একদিন পরিবারের সব দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন দূর হবে। এইচএসসি পাস করার পর পরিবারের ইচ্ছে পূরণ করতে সিলেট মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেন। বিধি বাম। অকৃতকার্য হন। আর চান্স হলো না তার।
ফারজুক বলেন, মেডিকেলে চান্স পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, পাইনি। পরে সিলেট এমসি কলেজের ম্যাথম্যাটিকস ডিপার্টমেন্টে চান্স পাই। অনার্সে ভর্তি হই। ভাবলাম কী করা যায়? বাবার টাকায় তো পড়ছি। এভাবে কতদিন? হঠাৎ একদিন ফেসবুকে দেখি সিলেটে সরকারের লানিং অ্যান্ড আনিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে (এলইডিপি) অধীনে পরিচালিত প্রফেশনাল আউসোসিং ট্রেনিং কোর্স করানো হবে। আমার তো স্বপ্ন একটা কম্পিউটার কেনার। এমনিতে তো বাবা কিনেই দিলো না। এই কোর্সের শর্ত আগ্রহী শিক্ষার্থীর কম্পিউটার থাকতে হবে। বিষয়টা বাবাকে বলি। এদিকে বাবাতো ফ্রিল্যান্সিং বোঝেন না। অনলাইন থেকে টাকা আসবে এটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। অনেক করে বোঝানোর পর শেষে কম্পিউটারটি কিনে দেন। আমি ওই আউসোসিং ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হতে যাই। সেখানেও আমাকে নেয়া না, কারণ নিয়োগের সময় পার হয়ে গেছে।
অনেক আগ্রহ নিয়ে প্রথমেই একটা ধাক্কা খেলেন ফারজুক। ক্ষণিকের জন্য মন খারাপ হলেও হতাশ হননি। আবার চেষ্টা করতে থাকেন। সবসময় ফেসবুকে খুঁজতে থাকেন। কোথায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ফারজুক বলেন, একদিন একটা ফেসবুক গ্রুপে এক বড় ভাইয়ের ফিউচার আইটি ভ্যালি ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং ফ্রি ট্রেনিংয়ের পোস্ট দেখি। রেজিস্ট্রেশন করে সেমিনারে অংশগ্রহণ করি। ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রাথমিক অনেক কিছু শিখি। ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি আগ্রহটা বেড়ে যায়। সিদ্ধান্ত নেই ওখানে ভর্তি হওয়ার। বাধা হয়ে দাঁড়ায় কোর্স ফি। এত টাকা পাবো কোথায়? বাবা তো অনেক কষ্টে কম্পিউটার কিনে দিয়েছেন। তখন বিষয়টি ফিউচার আইটি ভ্যালির কর্তৃপক্ষকে জানালে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেন তারা।
একদিনের সেমিনারে সফল ফ্রিল্যান্সারদের জীবন কাহিনি, ফ্রিল্যান্সিং কি, কোথায়, কীভাবে, কোন কোন বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যাবে, কেমন আয় হবে ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা লাভ করেন ফারজুক। সে অনুসারে প্রশিক্ষণ নিতে ফিউচার আইটি ভ্যালিতে ভর্তিও হন। বিপত্তি বাধে কোন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিবেন।
ফারজুক বলেন, সেমিনারে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে আমি প্রাথমিক ধারণা লাভ করি। কিন্তু কোন বিষয়ে করবো বুঝতে পারছিলাম না। ওই সময় বন্ধু শাহাদাৎ হোসেন জাহিদ ফ্রিল্যান্সিং করত। ও বললো বন্ধু তুই এই সেক্টরে যেহেতু নতুন, ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে শুরু কর- ভালো করবি। তখন ওর পরামর্শে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে প্রশিক্ষণ নেয়া শুরু করি।
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে প্রশিক্ষণ চলাকালে ফারজুকের আর্নিং শুরু হয়। তিনমাস প্রশিক্ষণ নেয়ার পর কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি রীতিমতো ইনকান করতে থাকেন তরুণ এই ফ্রিল্যান্সার। বায়ারদের সাথে কাজ করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হয় তার। বুঝতে পারেন কাজে দক্ষ না হলে বড় বড় প্রজেক্টের কাজ করা সম্ভব না। তখন জানার ও শেখার নেশায় ভর্তি হন কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ কোর্সে।
ফারজুক বলেন, প্রশিক্ষণ নিয়ে প্র্যাকটিকেলি মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে গিয়ে দেখি আমার অনেক বিষয়ে দক্ষতার অভাব আছে। নিজেকে আরো দক্ষ করে তুলতে হবে। তখন কম্পিউটার কাউন্সিলের আয়োজনে বেসিক কম্পিউটার, হার্ডওয়্যার মেন্টেনেন্স, কম্পিউটার ডিপ্লোমা ও অ্যাডভান্স ডিপ্লোমা এই চারটি বিষয়ে দুইবছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এরপরও দেখি ইংরেজিতে দুর্বল। পরে আইইএলটিএস কোর্স করি। এরপর কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন কিছু শিখছি। কাজ করতে গিয়ে যখন কোন সমস্যায় পড়ি তখন গুগল ও ইউটিউব থেকে সে বিষয়ে জেনে নিজেকে একটু একটু করে দক্ষ করি।
বর্তমানে ওয়ান ম্যান সল্যুশনসের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বায়ারদের কাছ থেকে প্রজেক্ট এনে নিজের স্টুডেন্টদের দিয়ে কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছেন তরুণ এই ফ্রিল্যান্সার। সেসাথে আমেরিকার চারটা কোম্পানির সাথে নিয়মিত প্রজেক্টভিত্তিক কাজ করছেন। অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভারে লেভেল-২ সেলার হিসেবেও কাজ করছেন। বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেয়া এবং নিজের বায়ারদের কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে চলছে ফারজুকের। পেশা থেকে এখন ফ্রিল্যান্সিং তার নেশায় পরিণত হয়েছে ।
ফারজুকের ফ্রিল্যান্সিংয়র অনুপ্রেরণার উৎস হলেন মোহাম্মদ ফকরুল উদ্দিন রাহাত। সফল ফ্রিল্যান্সার, ট্রেইনার, উইটিউবার ও উপস্থাপক। তার সব কিছুই ফারজুককে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তার চোখে মোহাম্মদ ফকরুল উদ্দিন রাহাত ফ্রিল্যান্সারদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তার আরো দুজন রোল মডেল মিসবাহুর রহমান ও ফখরুল আবেদিন রাহাত। এই দুজনও তার ট্রেইনার। মিসবাহুর রহমান তাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরু থেকে যেকোনো সমস্যায় একটু বেশি সাপোর্ট দিয়েছেন।
একজন তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষণ নেয়ার পর যখন মার্কেটপ্লেসে কাজের জন্য চেষ্টা করেন তখন তাকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। নতুন হিসেবে বায়ারের সাথে সঠিক ভাবে কমিউনিকেশন করা, নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা, কাজটি নিয়ে বায়ারের নির্দেশনা মতে নিখুঁতভাবে করে সেটি সঠিক সময়ে সাবমিট করা। এই কাজগুলো সুন্দর ও নিখুঁতভাবে করতে গিয়ে সমস্যায় পরলে একজন দক্ষ মেন্টর প্রয়োজন হয়, যার কাছে সব বিষয়ে পরামর্শ নেয়া যায়।
ফারজুকের ভাষ্য, শুধু মেন্টরের অভাবে অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সার কাজের শুরুতে হোঁচট খান। বায়ারের কাছ থেকে কাজ নিয়ে যখন কোন সমস্যায় পড়েন, তখন সঠিক দিকনির্দেশনার প্রয়োজন হয়। এর অভাবে বেশির ভাগ সময় কাজটা ঠিক সময়ে শেষ করে ডেলিভারি দিতে পারেন না। তখন ধাক্কা খান। হতাশ হয়ে কেউ কেউ কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আরো কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন মফস্বলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যায় বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং আর্থিক লেনদেনের সীমাবদ্ধতা। আমাদের দেশে প্যাপাল না থাকায় কঠোর পরিশ্রম করে কাজ শেষ করেও বায়ারদের কাছ থেকে পেমেন্ট পেতে প্রচুর ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়।
একজন ফ্রিল্যান্সারের পোর্টফোলিও অনেকটা বিজ্ঞাপনের মতো। বিজ্ঞাপন দেখে যেমন ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়ে কোম্পানির প্রোডাক্ট কেনেন। ঠিক তেমনি, ফ্রিল্যান্সারের পোর্টফোলিও দেখে বায়াররা কাজের অর্ডার দেন। তাই পোর্টফোলিটা সুন্দর, স্মার্ট, আপডেটেড, নান্দনিক ও বৈচিত্রপূর্ণ করে তৈরি করতে হবে, যাতে বায়াররা এক নজর দেখে সহজে বুঝতে পারেন কাজের দক্ষতা। আর কথা, কাজ ও কমিটমেন্ট দিয়ে একবার বায়ারের সাথে বিশ্বস্ত সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে কাজের অভাব হয় না।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে সবগুলো মার্কেটপ্লেস অনেক প্রতিযোগিতার। দক্ষরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে লড়াই করে মাঠে টিকে আছেন। নিয়ম-কানুন আগের থেকে অনেক কড়াকড়ি। তাই সবসময় মার্কেটপ্লেসের নিয়মকানুন মেনে কাজ করতে হয়। যারা ফাইভার মার্কেপ্লেসে কাজ করতে চান তাদের অবশ্যই বেশ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে হবে। কেউ নিয়ম না মানলে অ্যাকাউন্ট ব্যান করে দেয়া হয়। এখানে সেলারদের ক্ষেত্রে ৩টা লেভেল রয়েছে। লেভেল ১, ২ ও টপ লেভেল সেলার। কাজ করে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে লেভেল ২তে যেতে পারলেই সাধারণত কাজের অভাব হয় না।
ফারজুক বলেন, ফাইভারে নতুনদের একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে। মার্কেটে দিনদিন সেলার ও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। কাজের পরিমাণও বাড়ছে। কেউ যদি অ্যাকাউন্ট খুলে গিগ বানিয়ে বসে শুধু ইমেইল চেক করেন আর ভাবেন কখন অর্ডার আসবে, সেই দিন আর নাই। এখন যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে কাজ করতে হবে। সুন্দর করে গিগ বানাতে হবে। বর্ণনা দিয়ে গিগ টাইটেল ও ট্যাগ দিতে হবে। এসইও অপ্টিমাইজড হতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিগের লিংক শেয়ার করতে হবে। আর কাজ নেয়ার আগে চিন্তা করবেন কাজটা আপনি করতে পারবেন কি না। বায়ার আপনাকে কোন মেসেজ পাঠালে সাথে সাথে মেসেজের রিপ্লাই দেয়ার চেষ্টা করবেন। এতে বায়ার আপনার উপর ভরসা করবে। আর কেউ যদি কখনও কোন ইস্যুতে সমস্যায় পড়েন, তখন সাথে সাথে ফাইভার সাপোর্ট টিমের সাথে কথা বললে সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে।
মহামারি করোনা সারাবিশ্বের করপোরেট সেক্টরের কাজগুলো ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে করিয়ে নিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। উন্নত বিশ্বের কোম্পানির কাজ এখন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে করিয়ে নেয়া হচ্ছে। সঙ্গত কারণে সারা বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিংয়ের অবারিত সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ফারজুক বলেন, যারা দক্ষ ও অভিজ্ঞ তারা মার্কেটপ্লেসে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। কেউ যদি ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে চান, তাহলে প্রথমে তাকে ঠিক করেতে হবে, তার কোন বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে, কী কাজ করতে ভালো লাগে। বিষয় ঠিক করার পর সে বিষয়ে ভালোভাবে জানতে ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। খুব বেশি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ না হলে এই পেশায় আসা ঠিক হবে না। আবার কারো যদি প্রতিনিয়িত চ্যালেঞ্জ নেয়া ও শেখার মন-মানসিকতা থাকে, তাহলে তার জন্য এটি খুব সম্ভাবনার ক্যারিয়ার হতে পারে। তবে কাজকে মন থেকে ভালোবাসতে হবে। কাজের প্রতি সৎ হতে হবে। কাজকে উপভোগ করতে হবে।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ফারজুক বলেন, ফ্রিল্যান্সিং চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। এখানে প্রতিদিনই শিখতে হয়। এখানে সবসময় উচ্চ কমিটমেন্টে কাজ করতে হয়। লেগে থাকতে হয়। যদি আপনি নিজেকে আপডেট রাখতে পারেন, তাহলে এই সেক্টরে সফলতা আসবেই। আর বর্তমান চাকরি বাজারে ফ্রিল্যান্সিং পেশাটাকে আমি সবার উপরে রাখতে চাই। এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে দক্ষতা ও যোগ্যতার বলে যে কেউ সফল হতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন শুধু লেগে থাকা আর পরিশ্রম করার মানসিকতা। তবে এই কাজের মধ্যে একটা নেশা আছে। এই নেশা যাকে একবার পায় তার ফ্রিল্যান্সার হওয়া কেউ ঠেকাতে পারে না।
ফ্রিল্যান্সিং করে তার ঝুঁলিতে উঠেছে বেশ কিছু অর্জন। পড়াশোনার পাশাপাশি চার বছরে প্রায় ৯০ লাখ টাকা আয় করেছেন আত্মপ্রত্যয়ী এই ফ্রিল্যান্সার। এছাড়াও সিলেট জেলা সেরা ফ্রিল্যান্সার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে সারাদেশ থেকে সাড়ে ৬শ স্টুডেন্টকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইশর বেশি স্টুডেন্ট তাদের আয় দিয়ে পরিবার চালাচ্ছেন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত আছেন ফারজুক। সেসাথে প্রতিদিনই নতুন বিষয় শিখতে হচ্ছে এবং সে অনুসারে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ভাষ্য, প্রশিক্ষণ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করানোর মধ্যে আলাদা আত্মতৃপ্তি আছে। সত্যি কথা নিজের টিমকে নিয়ে কাজ করতে ভীষণ উপভোগ করি। নিজের টিমকে নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করতে পারছি বলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়।
দেশের তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজ করতে চান স্বাপ্নিক এই ফ্রিল্যান্সার। যাদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নেয়ার অদম্য আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন না, তাদের স্কলারশিপ দিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ফারজুক। এভাবে আগামীতে অস্বচ্ছল স্টুডেন্টদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে যেতে চান তিনি। সেসাথে নিজের গড়া ওয়ান ম্যান সল্যুশনস ফ্রিল্যান্সিং অ্যাজেন্সিকে একটা স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। যেখানে ১০০ জনের বেশি মেধাবী তরুণ এই দলে কাজ করবেন। আর পুরো দলের নেতৃত্ব দিবেন ফারজুক।