মধুপুর বনে বসে পিছিয়ে পড়া তরুণদের ডলার আয়ের পথ দেখান সুবীর

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২২
https://mail.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png উজ্জ্বল এ গমেজ
https://mail.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের মধুপুরের বনাঞ্চল। কোথাও সমতল, কোথাও ছোট ছোট টিলা, আবার কোথাও উঁচু টিলায় ঘেরা   শান্ত-সুনিবিড়, ছায়া ঘেরা অনন্য প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। এখানে গারো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম ও ম্রোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বাস। আধুনিক যুগের সব সুযোগ-সুবিধা থাকলেও এখনও মোবাইল, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি খুবই ধীর। এমনই পরিবেশে ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের ভাগ্য বদলের চিন্তা করেন ঢাকা শহর থেকে এমবিএ পাস করা সুবীর নকরেক।

বড় চাকরির অফার পেয়েও স্বাধীনভাবে কাজ করার জেদ থেকে হন ফ্রিল্যান্সার। এখন তিনি শুধু সফল ফ্রিল্যান্সারই না, নিজের অদম্য চেষ্টায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। হয়েছেন হাজারো তারুণ্যের স্বপ্নদষ্টা ও তাদের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা।

বলছিলাম সফল ফ্রিল্যান্সার ও নকরেক আইটি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর জেভিয়ার নকরেকের কথা। মাত্র পাঁচ বছরে ৬ হাজারেরও বেশি ২০টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উপযোগী ও দক্ষ করে তুলেছেন। এর মধ্যে হাজারেরও বেশি তরুণরা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে সফলতার সাথে ফ্রিল্যান্সিং করছেন। তার এই সফলতার পেছনে রয়েছে নানান ঘটনা।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের গায়রা নামের প্রত্যন্ত টিলাবেষ্ঠিত বনাঞ্চলে শিক্ষিত গারো পরিবারে জন্ম  সুবীর জেভিয়ার নকরেকের। বাবা বেলজিয়ামের একটা সংস্থায় চাকরি করেন। মা গৃহিণী। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত আছেন। চার ভাইয়ের মধ্যে সুবীর দ্বিতীয়।

বনাঞ্চলে গ্রাম হওয়াতে ছোটবেলা থেকেই গ্রামে, বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়িয়ে, ফুটবল খেলে কাটে সুবীরের শৈশবের স্বর্ণালী দিনগুলি। পড়ালেখায় বরাবরেই ভাল ছিলেন। প্রাথমিকের সব শ্রেণিতে ভাল রেজাল্ট করেছেন। ২০০৫ সালে  নিজের এলাকার স্কুলের সায়েন্স বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করে সন্ন্যাস জীবনযাপন করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মানব সেবার ব্রত নিতে মধুপুর থেকে পারি জমান রাজধানী ঢাকায়। উদ্দেশ্য হলিক্রস ব্রাদার সংঘে যোগ দিয়ে সন্ন্যাসব্রতী হওয়া। মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করা। ভর্তি হন  নটর ডেম কলেজে কমার্স বিভাগে। তখনও তিনি কম্পিউটার চালানো শেখেননি। যাদুর  যন্ত্রটি সবসময় খুব কাছে টানতো তাকে।

যন্ত্রটি চালানোর শেখার খুব ইচ্ছে। মনের ইচ্ছের কথা জানালে হলিক্রস কর্তৃপক্ষ তাকে পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সংঘে কম্পিউটার অপারেটর ও লাইব্রেরিয়ান হিসেবে খণ্ডকালীন চাকরি করার সুযোগ করে দেয়। সুযোগটা কাজে লাগান সুবীর। নটরডেম কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি দুই বছরে কম্পিউটার চালনোটা শিখে নেন।

তখন তার কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ দেখে ব্রাদার্স সংঘের পক্ষ থেকে তাকে কম্পিউটার শিক্ষা এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারে বিষয়ে দক্ষ হওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। ২০০৮ সালের শেষের দিকে কলেজের পাট চুকিয়ে ফেলেন সুবীর। সন্ন্যাসব্রতী হয়ে জীবনযাপন করার ইচ্ছে নিয়ে ব্রাদার সংঘে যোগ দিলেও কলেজ পাস করার পর জীবনের গতি পথ বদল করেন তিনি।

সুবীর বলেন, ব্রদার হয়ে বাধ্যতার ব্রত নিয়ে মানুষের সেবা করার চেয়ে সংসার জীবন থেকেও মানুষের সেবা করা যেতে পারে। সেটা বিভিন্ন ভাবে হতে পারে। সে উদ্দেশ্যে আমি ব্রাদার সংঘ থেকে বের হয়ে আসি। তখন ২০০৯ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্সে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হই। মাঝখানে পরিবার থেকে বিদেশে চলে যেতেও বলা হয়। কিন্তু আমার মন তাতে সায় দেয় না। নিজের চেষ্টায় কিছু করার তাগিদ বোধ করি।

কি করলে নিজে সুন্দর মতো চলা যাবে, পাশাপাশি আমাদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের ভাগ্য বদল করা যায় সে বিষয়ে ভাবতে থাকি। নানাভাবে খোঁজ করতে শুরু করি আয়ের পথ।  ফেসবুকের কল্যাণে জানতে পারি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে। সিদ্ধান্ত নেই ফ্রিল্যান্সিং শেখার। কিন্তু এর জন্য প্রথমে দরকার একটা কম্পিউটার।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কবিতা লিখতেন সুবীর। জমানো অল্প কিছু টাকা দিয়ে কবিতার বই প্রকাশ করেন। এরপর বন্ধু-বান্ধবের সহায়তায় সেই কবিতার বই বিক্রি করে আয়ও হয়। সেই টাকা দিয়ে কেনেন নিজের প্রথম কম্পিউটার।

সুবীরের ভাষ্য, কম্পিউটার চালানো তো জানি। এখন ফ্রিল্যান্সিং শেখার পালা। ২০১০ সাল। তখন ‘ঘরে বসে কম্পিউটারে কাজ করে ডলার উপার্জন করবেন’ এমন বিজ্ঞাপন দেখে ঢাকায় একটি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হই। বেশ কিছু টাকা বিনিয়োগও করি। বিধি বাম, প্রতারিত হই। অনেকটা হতাশ হয়ে পড়ি।

পড়াশোনাটা চালিয়ে যাই। ২০১৪ সালে এমবিএ পাস করি। তখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন-সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে ভালো চাকরির প্রস্তাব পেয়ে সেখানে যোগ দেই। ২০১৬ সালে ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর জাপানি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।আবার বেকার হয়ে যাই। তখনই মাথায় আসে এভাবে অন্য কোনো এনজিওতে চাকরি করলে হঠাৎ প্রজেক্ট বন্ধ হলে বেকার হতে হবে। তাই নিজে থেকেই কিছু করতে হবে।

মা ও মাটির টানে ফিরে যান নিজের জন্ম ভূমিতে সুবীর। মা-বাবাকে জানান, নিজেদের জমিতে কলা চাষ করে আশপাশের কৃষকদের নিয়ে হতে চান স্বাবলম্বী। কিন্তু সুবীরের মা-বাবার ইচ্ছে ছেলে বিসিএস ক্যাডার হয়ে বড় সরকারি অফিসার হবে। তাই তাঁকে বলে-কয়ে আবার ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। মা-বাবা চেয়েছিলেন ঢাকায় গিয়ে ছেলে বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবে।

কিন্তু সুবীর ঢাকায় এসে সরকারের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রযুক্তিনির্ভর আউটসোর্সিংয়ের কাজ ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মশালায় যোগ দেন। প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে করপোরেট ব্র্যান্ডিং, ডিজাইন, লোগো, ফ্ল্যায়ার তৈরি, ব্রশিওর, আইডি কার্ড তৈরি ইত্যাদি শিখেন।

সুবীর বলেন, নিজের উপরে প্রবল আত্মবিশ্বাস ছিল। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করি। প্রথম কাজ ছিল একটি ফ্ল্যায়ারের নকশা করা। এর জন্য পেয়েছিলাম ৭৫ ডলার। কাজটি খুব যত্ন করে সময় মতো শেষ করে দেই। এভাবেই শুরু। পরে ধীরে ধীরে ২০০ ডলার, ৩০০ ডলার করে কাজ আসতেই থাকে। একসময় দেখি বায়ারদের কাছ থেকে এত প্রজেক্ট আসছিল যে, একার পক্ষে   সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিমাসে গড়ে ৫০-৭০ হাজার টাকা আয় হতে থাকে।  তখন পরিকল্পনা করি টিম তৈরি করে এসব প্রজেক্টের কাজ করার। আবার ফিরে যাই নিজের গ্রামে।

সুবীর নিজ গ্রামের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তরুণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশায় যুক্তদের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টি বোঝাতে শুরু করেন। ফ্রিল্যান্সিং কী, কীভাবে করলে অর্থ আয় করা যায়, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সে ব্যাপারে ধারণা দিতে শুরু করেন। তারপর আশপাশের গ্রামগুলোতে গিয়ে বিনামূল্যে সেমিনার ও সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেন।  

সুবীরের ভাষ্য, এভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে বেশ কয়েকজনকে প্রস্তুতও করি। কিন্তু তরুণেরা দক্ষ হয়ে উঠলে অন্য কারও অধীনে কাজ করতে চান না। তাই অন্যভাবে ভাবতে থাকি, কী করা যায়।  তখন আমার মনে হলো আমাদের ৪৫টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর যারা অবহেলিত, তাদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন। সে তাগিদে শহর থেকে শুরু করে পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে তরুণদের নিয়ে ফ্রিলান্সিংয়ের ফ্রি সেমিনার করাতে শুরু করি। যেসব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে প্রশিক্ষণ দিয়েছি তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, গারো, তঞ্চঙ্গ্যা, সাঁওতাল, রাজবংশী, বর্মণ, কোচ, ওঁরাও, ত্রিপুরা, পাংখো, রাখাইন, খাসি, হাজং, বম ও ম্রো সম্প্রদায়।

তিনি যেসব এলাকায় ফ্রিল্যাসিংয়ের ফ্রি সেমিনার দিয়েছেন সেখানে ৫০ জনের মধ্যে দুই করে ফ্রিল্যান্সিং করার প্রতি আগ্রহী হতো। এভাবে অল্প অল্প করে শিক্ষার্থীদের এক সাথে করে একটা টিম গড়ে তুলেন সুবীর। চিন্তা করেন এদের দিয়েই পিছিয়ে পড়া  ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষিত তরুণদের স্বপ্নের ঠিকানা গড়ে তোলা সম্ভব। ২০১৭ সালের আগস্টে গড়ে তুলেন ফ্রিল্যাসিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নাম দেন নকরেক আইটি ইনস্টিটিউট। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চারটি শাখায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   

মধুপুর বনের মধ্যে গায়রা গ্রামে ইন্টারনেটের গতি খুবই ধীর। কখনো কখনো গাছের ডালে মডেম ঝুলিয়ে, উঁচু টিলায় ল্যাপটপ মডেম নিয়ে গিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ পেতে হয়। প্রতিবন্ধকতা পদে পদে। তারপরও থেমে থাকেন না সুবীর ও তার আশপাশের গ্রামের তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের কার্যক্রম।

সুবীর বলেন, আমাদের গ্রাম ছাড়াও এখানে বনে ৪৯টি গ্রাম রয়েছে।  মোবাইল ইন্টারনেটের গতি খুবই ধীর। উঠান পর্যন্ত টুজি, থ্রিজি নেটওয়ার্ক আপ-ডাউন করে। ঘরে গেলে পুরো নেটওয়ার্কই বন্ধ হয়ে যায়। সারাদেশের গ্রাহকরা তো ফোরজি গতি পাচ্ছে। আর ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের অবস্থাও একই রকমের। বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার মহোদয়কে জানিয়েছি। চলতি মাসের ২১ অক্টোবর আমাদের এলাকায় একটা প্রোগ্রামে আসার কথা।

একই সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মহোদয়কেও  আমাদের ইন্টারনেটের সমস্যার কথা জানিয়েছি। উনিও আসার কথা জানিয়েছেন। আশা করছি দুই মন্ত্রী আসলে আমাদের এ সমস্যাটা শিগগিরই দূর হবে বলে আশা করছি।

বর্তমানে ময়মনসিংহের কাঁচিঝুলি, ল্যাংড়ার মোড় বলাশপুর, গাজীপুরের ফুলবাড়িয়া ও জামালপুরের নান্দিনায় ও ঢাকার বারিধারায়  নকরেক আইটি ইনস্টিটিউটের এই পাঁচটি শাখায় অফলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মধুপুরের গায়রা গ্রাম থেকে শুধু অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। একইসাথে অনলাইনে সারা দেশ থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা নকরেক আইটির ক্লাস করেন। ২৫টি দেশ থেকেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

গারো কমিউনিটি ছাড়াও ২১টি কমিউনিটির তরুণরা নকরেক আইটির অনলাইনে ফ্রি সেমিনার, অরিয়েন্টটেশন ক্লাসগুলি থেকে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে ধারণা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করছেন।

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে মধুপুর বনাঞ্চল থেকে তিনি দেশ-বিদেশের অসংখ্য গ্রাহকের কাজ করে যাচ্ছেন। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে এখন পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ের নানা কাজ শিখিয়ে যাচ্ছেন। নকরেক আইটি ইনস্টিটিউট থেকে এ পর্যন্ত অনলাইন ও অফ লাইনে ৬ হাজারের বেশি তরুণ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১শ’র বেশি তরুণই সফলভাবে লোকাল ও গ্লোবাল মার্কেটে ফ্রিল্যান্সিং করছেন।

নকরেক আইটি ইনস্টিটিউটকে নিয়ে অনেক দূর যেতে যান স্বপ্নবাজ এই ফ্রিল্যান্সার।  মধুপুরের বনের মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পিছিয়ে পড়া যে ৫০টি গ্রাম আছে, সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট ব্যবস্থা ভাল করে দিলে, আগামী ৫ বছরে এখান থেকে আমাদের ৫ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের প্রতি আমাদের আবেদন, এখানে যেন শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ইনকিউবিশন সেন্টার স্থাপন করে দেয়া হয়।

আমরা যেসব পিছিয়ে পড়া তরুণদের প্রশিক্ষণ দিব, তারা যেন এই ল্যাবে প্র্যাকটিস করে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে। আমরা যেহেতু গ্লোবালি ইন্টারন্যাশল কোম্পানিগুলোতে কাজ করি, তাই আমরা চাই এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, যেখানে বিদেশ থেকে এখানে লোক আসবে, আমাদের কোম্পানিতে ইনভেস্ট করবে। তখন স্থানীয়ভাবে আরও হাজার হাজার বেকার শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারসহ বেসরকারি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
image

আপনার মতামত দিন