এপ্রিল মাসে গরমের তীব্রতা নিয়ে যা জানা গেল

প্রকাশ: বুধবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৫
https://mail.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png টেকভয়েস২৪ রিপোর্ট
https://mail.techvoice24.com/assets/images/logoIcon/logo.png
  ছবি: সংগৃহীত
শীত শেষে দেশে গরম পড়তে শুরু করেছে। মার্চ মাসে গরমের তীব্রতা কম থাকলেও এপ্রিলের শুরু থেকেই দেশের কয়েকটি এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এই গরম পুরো এপ্রিল জুড়ে তীব্র হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস আভাস দিয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি এপ্রিলে দুই থেকে চারটি তাপপ্রবাহ হতে পারে। তাপপ্রবাহ ছাড়াও একটি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া এপ্রিলের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। অন্যদিকে এ মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। দুই-চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে। যার মধ্যে এক-দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।

এপ্রিলের গড় স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদি কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তবে সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তীব্র তাপপ্রবাহ তখন ধরা হয় যখন তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়। আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌গত ৩০ বছরের আবহাওয়া পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হত কিংবা গরম পড়ত এখন সেটাতে পরিবর্তন এসেছে। বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেছে অন্যদিকে গরম গেছে বেড়ে। এটা আসলে বিশ্বব্যাপী জলাবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আবহাওয়ায় যে পরিবর্তন এসেছে তারই ফল। আগামী দিনগুলোতে অবস্থা কোন দিকে গিয়ে থামবে সেটা এখন দেখার বিষয়।’

এপ্রিলে গরমের পাশাপাশি আছে কালবৈশাখীর আশঙ্কা। এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি স্থানে কালবৈশাখী হয়েছে। এ মাসে পাঁচ-সাতদিন বজ্র, শিলাবৃষ্টিসহ হালকা ও মাঝারি ধরনের এবং এক থেকে তিনদিন তীব্র কালবৈশাখীর আশঙ্কা আছে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক-দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরো জানানো হয়েছে, এপ্রিলে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোয় স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে এ অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, ‘মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি নিম্নচাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। যে তীব্র তাপপ্রবাহের কথা বলা হচ্ছে, তা এ মাসের শেষ দিকে হতে পারে। এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে।’

এ মাসে ঢাকায় আটদিন, ময়মনসিংহে আট, চট্টগ্রামে সাত, সিলেটে ১৩, রাজশাহীতে ছয়, রংপুরে ছয়, খুলনায় পাঁচ ও বরিশালে সাতদিন বৃষ্টি হতে পারে।

গত বছর দেশে তাপমাত্রা যা ছিল, তা ৭৬ বছরের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ। এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত টানা ৩৫ দিন তাপপ্রবাহ ছিল। শুধু বাংলাদেশ নয়, গত বছর ইতিহাসের সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস যতটা উষ্ণ ছিল তাও বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

গত বছর এপ্রিল ও মে মাসে এ অস্বাভাবিক ও টানা তাপপ্রবাহের কারণে কালবৈশাখীর সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। সাধারণত এপ্রিলে নয়দিন এবং মে মাসে ১৩ দিন কালবৈশাখী হয়। কিন্তু গত বছর এপ্রিলে মাত্র দুই এবং মে মাসে চারটি কালবৈশাখী হয়েছিল বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘এবার এপ্রিল ও মে মাসে মেঘ সৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বেশি থাকতে পারে। কালবৈশাখীর সংখ্যাও বাড়তে পারে। আর তাতে গত বছর যেভাবে একটানা দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ চলেছে, তা নাও থাকতে পারে।’
image

আপনার মতামত দিন