মোট ১৩ বছরের দায়িত্ব কাল শেষে বাংলাদেশ ছাড়ছেন বাংলালিংকের সিইও এরিক অস। চলতি মাসের দায়িত্ব থাকলেও নতুন সইওর আগমনে বুধবার বাংলাদেশ ত্যাগ করছেন তিনি। আপাতত জন্মস্থান নরওয়েতে থাইল্যান্ডের পরিবারের কাছে যাচ্ছেন। সেখানে পরিবারের সাথে সময় কাটাবেন। তবে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ অবস্থান করে ভালোবেসে ফেলেছেন লাল সবুজের এই দেশকে। এদেশের রাজনীতি-অর্থনীতি মানুষের ভালোবাসা, আবেগ সবকিছুই যেন তার অতি আপন হয়ে উঠেছে যাপিত সময়েছে। বললেন, বাংলাদেশের চড়ােই- উৎরাই, সংগ্রাম, সফাল্য সবই যেনো চোখে ভাসছে।
রবিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায় আলাপকালে এমনটাই জানান এরিক।
তিনি বলেন, এদেশের মানুষ এবং তাদের কার্যক্রম খুবই প্রোডাক্টিভ। তাদের সহযোগিতা, ভালোবাসা সত্যিই প্রশংসার। তারাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনীতি এবং সামাজিক দুই দিক দিয়েই ভালো প্রবৃদ্ধি করবে আগামীতে। এই দেশে মোবাইল শিল্পের বিকাশে আমি সবসময়ই মিডিয়ার ভূমিকাকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবো। আজকের সমৃদ্ধির অংশীদার তারাও।
“অর্থনৈতিকভাবে এ দেশ এগিয়ে যাবে। এই দেশের মানুষ, যাদের অসাধারণ প্রোডাক্টিভিটির পক্ষে আমাদের অবস্থান। তারাই জীবনের সর্বক্ষেত্রে এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, শুধু অর্থনৈতিকভাবে না। এই ধারা চলতে থাকবে এবং এই দেশের ভবিষ্যতটা এখানেই নিহিত”- যোগ করেন এরিক অস।
বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী হলেও এখানকার টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা হতাশ এরিক বললেন, “বাংলাদেশে এই খাত ওভার রেগুলেটেড। এর কারণে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি ঘটেনি।”
বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমানের উপস্থিতিতে বিদায়ী সিইও এর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সভাপতি সমীর কুমার দে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুদুজ্জামান রবিন।
বিদায় উপহার দেন টিএমজিবি সভাপতি কাউছার উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন জুনায়েদ। এছাড়াও বিদায়ী বাংলালিংক সিইও এরিকসের সাফল্য কামনা করেন বিআইজেএফ সভাপতি হিটলার এ হালিম এবং সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হাসান।
টিআরএনবি’র পক্ষ থেকে বিদায়ী সিইও-কে দেয়া সম্মাননা স্বারক পাঠ করেন বাংলালিংকের পাবলিক রিলেশন অ্যান্ড হেড অফ করপোরেট কমিউনিকেশন তৌহিদ আহমেদ।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অপারেটরটির চিফ চিফ ডিজিটাল অফিসার (সিডিও) গোলাম কিবরিয়া, চিফ হিউম্যান রিসোর্স এডমিনিসট্রেশন অফিসার মনজুলা মোর্শেদ, কোম্পানি সেক্রেটারি জহরত আদিব চৌধুরী প্রমুভ।
বাংলাদেশের চাকরী জীবনে গ্রামীণ ফোনে চার বছর এবং বাংলালিংকে নয় বছর চাকরি করলেন এরিক অস। আাগামী ৬ এপ্রিল নতুন সিইও এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে আবারো বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবেন তিনি। এর আগে বাংলালিংকের নতুন সিইও হিসেবে গত ১৭ মার্চ ইওহান বুসের নাম ঘোষণা করে অপারেটরটির মূল কোম্পানি ভিওন। নতুন সিইও ৬ এপ্রিল দায়িত্ব নেবেন।
কথায় কথায় এরিক জানালেন, আপাতত ফিরছেন পরিবারের কাছে। সেখানে দুই কিশোর সন্তানকে সময় দেবেন। এই গ্রীষ্ম নিজ দেশ নরওয়েতে কাটিয়ে শীতে ফিরবেন থাইল্যান্ডে যেখানে বসবাস করছে প্রিয় পরিবার।
পরবর্তী কর্মস্থল কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপাতত কিছু ঠিক করিনি। কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে নেই আগে।”